হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট প্রকট
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকট দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস থাকা এ উপজেলায় ৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকলেও মাত্র দুইজন চিকিৎসকের ওপর ভর করে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভৌগোলিকভাবে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি শুধু হোসেনপুর নয়, ময়মনসিংহের পাগলা থানার পাঁচভাগ ইউনিয়ন, নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গিরপুর ইউনিয়ন এবং পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের রোগীদেরও একমাত্র ভরসা।
বুধবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। শিশু, নারী, বৃদ্ধ—সবার জন্য চিকিৎসার একমাত্র অবলম্বন এই হাসপাতাল। চিকিৎসক ডা. আল নুর আকাশ একাই শিশু থেকে বৃদ্ধ রোগীদের দেখছেন।
হাসপাতালের সেবাপ্রার্থী রুপালী আক্তার তার ৬ মাস বয়সী শিশু রওজা মনিকে কোলে নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। একইভাবে আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের কাওনা গ্রামের সুমা আক্তার তার তিন বছরের সন্তান তুহাকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুল হামিদসহ অসংখ্য অসহায় মানুষ চিকিৎসার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. তানভীর হাসান জিকু জানান, ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুইজন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য সেবার মানও ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, “এখানে আধুনিক কিছু যন্ত্রপাতি থাকলেও অভিজ্ঞ জনবল না থাকায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সরকার থেকে সরবরাহকৃত ওষুধ আমরা সর্বোচ্চভাবে বিতরণ করি, কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।”
ডা. জিকু অভিযোগ করেন, হোসেনপুরে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন থাকতে চান না। এর ফলে সংকট দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। সমস্যার সমাধানে ইতিমধ্যে ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক বরাবর একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নতকরণের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
...…....…......