গাজায় আগ্রাসন বন্ধে ট্রাম্পের সহায়তা চান ইসরায়েলের হাজার হাজার সেনা: উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মোড়
প্রতিবেদন: বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ | ০৪ আগস্ট ২০২৫
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাল্টা প্রতিরোধে নেমেছে হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের হাজার হাজার সেনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তা চেয়েছেন, এমন একটি তথ্য সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

গত কয়েক মাসে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এ পর্যন্ত কয়েক হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। ধ্বংস হয়েছে হাসপাতাল, স্কুল ও পানির সরবরাহব্যবস্থা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কিছু অংশ মনে করছেন, এই দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের কৌশলিক ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের নিরপেক্ষ মনোভাবের কারণে তারা প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
সম্প্রতি একটি ফাঁস হওয়া চিঠিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার সক্রিয় ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্য একযোগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি "যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব ব্যবহার করে গাজা পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে হস্তক্ষেপ করেন।"
তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসন গাজায় চলমান সংঘাতে পর্যাপ্তভাবে ইসরায়েলকে সহায়তা করছে না। বরং নিরপেক্ষতা দেখিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করছে। তারা বিশ্বাস করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবার সক্রিয়ভাবে কূটনীতিতে অংশ নেন, তাহলে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের অবস্থান আরও শক্ত হবে।
এই চিঠির খবরে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, এটি প্রমাণ করে ইসরায়েল সামরিকভাবে ব্যর্থতার মুখে পড়েছে এবং এখন পুরনো বন্ধুর সহায়তা চাইছে। অপরদিকে কিছু ডানপন্থী পশ্চিমা রাজনীতিকরা ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একজন মুখপাত্র জানান, “আমরা সবপক্ষকে শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি। কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে, পক্ষপাতদুষ্ট নয়।"