ㅤঅন্যায়কে ছোট থাকতেই প্রতিরোধ করুন
ওরা প্রকৃত ছাত্র নয়, ওরা সন্ত্রাসী। যেখানে একটা পদের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের পর্যন্ত রক্তাক্ত ও দৌড়ানি দেওয়া ,নিজেরাই দলীয় কোন্দলে একে অপরকে খুন করতে দ্বিধা করে না। সেখানে মতভিন্ন বা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে অন্যের উপর দায় চাপানো কিংবা প্রকাশ্যে জবাই করার হুমকি দেওয়া—এসব তাদের কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার।
অনেকে ভাবছেন—“আমাকে বলেনি, আমার দলকে টার্গেট করেনি, অন্য একটা দলকে বলেছে, এখানেই শেষ।” কিন্তু আপনি ভুল করছেন। আজকে তারা অন্য দল বা ব্যক্তিকে আক্রমণ করছে, কাল একইভাবে আপনাকেও বা আপনার দলকেও টার্গেট করবে যদি তাদের অন্যায় মেনে না নেন কিংবা অনুগত দাসে পরিণত না হন।
মনে রাখবেন—তারা মানুষ-ফেরেশতা নয়, মানুষের তৈরি দল, ফেরেশতার দল নয়। তাই ভুল করবে, অন্যায় করবে—এটাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হলো, সমাধান কী?
সমাধান একটাই—দেশের যে প্রান্তেই যেই দল বা ব্যক্তি তাদের দ্বারা আক্রান্ত হোক না কেন, সে আপনার শত্রুই হোক বা প্রতিদ্বন্দ্বী—তবুও অন্যায়কে অন্যায় বলুন, ভুলকে ভুল বলুন। প্রতিবাদ করুন, প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। না হলে একদিন আপনিও আক্রান্ত হবেন—তার নিশ্চয়তা নেই।
আমরা এর জলজ্যান্ত উদাহরণ দেখেছি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে। তখনও প্রথমে কিছু মানুষ, তারপর একটি দল, শেষে কিছু গৃহপালিত দল ছাড়া ধীরে ধীরে প্রায় সব দলই তাদের দ্বারা নিপীড়িত হয়েছে।
বাস্তবতা হলো—কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকার স্বৈরাচার হয়ে ওঠে তখনই, যখন তারা নিজেদের অন্যায় ঢাকতে বিরোধী মতকে দমন করতে শুরু করে। প্রশ্ন হলো—আপনি কি চান আপনার পছন্দের নেতা, প্রিয় দল বা সমর্থিত সরকার স্বৈরাচারে রূপ নিক? নিশ্চয়ই চান না।
তাহলে দয়া করে আর কাউকে নতুন করে স্বৈরাচার হয়ে ওঠার পথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করবেন না। অন্যায়কে ছোট থাকতে প্রতিহত করুন, প্রতিরোধ করুন। তারাও তো আমাদেরই ভাই, তাই বড় অন্যায় করার পথে তাদেরকে ঠেলে দিয়েন না। অন্যথায় পরোক্ষভাবে সমান অপরাধে আপনি-ও দায়ী।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ