আজ ২ আগস্ট, কিশোরগঞ্জের সাহিত্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের কবি আজহারুল ইসলামের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। কিশোরগঞ্জ শহরের স্টেশন রোডে ১৯৯৭ সালের এই দিনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম কিশোরগঞ্জবাসীর গর্বের ধন, যা আজও কালের স্রোতে অপরিসীম প্রাসঙ্গিক।
📜 জন্ম ও শৈশব:
কবি আজহারুল ইসলাম ১৯১০ সালের ১৪ মার্চ হোসেনপুর উপজেলার জগদল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাসও এই গ্রামেই। শৈশব থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তার। তিনি প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি নিজ চেষ্টায় আত্মশিক্ষায় আলোকিত হন।
📚 সাহিত্যকর্ম:
আজহারুল ইসলাম একজন প্রজ্ঞাবান কবি, অনুবাদক ও চিন্তাবিদ ছিলেন। তার রচনার মূল উপজীব্য ছিল কিশোরগঞ্জের প্রকৃতি, ঐতিহ্য, মানবিকতা এবং আত্মঅনুসন্ধান।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো—
রুবাইয়াত-ই-সাইফুদ্দিন বাখারজী (অনুবাদ, ১৯৩৮)
মনিরার বিরাগ (১৯৫২)
ছায়াপথ (১৯৬৫)
ভগ্নাংশ (১৯৬৭)
কিশোরগঞ্জ আমার কিশোরগঞ্জ (সর্বশেষ গ্রন্থ)
বিশেষ করে ‘কিশোরগঞ্জ আমার কিশোরগঞ্জ’ গ্রন্থে তিনি এই জনপদের মাটি, মানুষ, নদী ও ইতিহাসকে যেভাবে কবিতায় ধারণ করেছেন, তা এক অনন্য দলিল হয়ে আছে।
কবি আজহারুল ইসলামের লেখায় যেমন প্রকৃতির মমত্ববোধ, তেমনি ফুটে উঠেছে কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ জীবন, সংস্কৃতি ও ভাষার গভীর প্রেম। তাঁর কবিতা কিশোরগঞ্জের সাহিত্যচর্চার পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি ছিলেন নিঃস্বার্থ, নীরব সাধক, যাঁর সাহিত্য আজও পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
আজ কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে কিশোরগঞ্জবাসীসহ সাহিত্যপ্রেমী সমাজ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে এই মহৎপ্রাণ কবিকে। তাঁর সাহিত্য আমাদের গর্ব, তাঁর কণ্ঠে কিশোরগঞ্জের আত্মা কথা বলত।

