করিমগঞ্জ-তাড়াইলে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আবাস, মাঠে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামি জোট।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ-তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ-২) আসনটি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রভাব-বিস্তারী রাজনীতি থাকলেও এবার জাতীয় পার্টির একটি শক্তিশালী অংশ এবং জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামি দলগুলোর জোট নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
জাতীয় পার্টি বিভক্তির পর আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদার নেতৃত্বাধীন অংশটি এবার নির্বাচনমুখী তৎপরতা জোরদার করেছে। দলটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, যিনি অতীতে এই আসন থেকেই সংসদ সদস্য ছিলেন। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরকারসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই এডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু সদলবলে এলাকায় ফিরে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় হবেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামি জোট থেকে প্রফেসর ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান এই আসনে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামবেন। সাম্প্রতিক সময়ে হাওরাঞ্চল ও গ্রামীণ জনপদে দলটির বেশ কয়েকটি সমাবেশ ও তৃণমূল বৈঠকে তার উপস্থিতি আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তৃণমূলের সক্রিয়তায় এবার করিমগঞ্জ-তাড়াইলের নির্বাচনী লড়াই হবে তীব্র ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সাধারণ ভোটাররাও এখন অপেক্ষা করছেন দলগুলোর চূড়ান্ত মনোনয়ন এবং মাঠের প্রচারণা দেখতে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরই সব পক্ষের প্রচার-প্রচারণা আরও গতিশীল হবে বলে রাজনৈতিক মহলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এখন শুধু দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কে কতটা জনসম্পৃক্ততা বজায় রাখতে পারে এবং ভোটের দিন মাঠ দখল রাখতে পারে।
বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ /০৯ নভেম্বর ২০২৫ইং

