কিশোরগঞ্জ শহরের সতাল রোড: গর্তে ভরা সড়কে গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, জনদুর্ভোগ চরমে।
রিপোর্ট :বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ শহরের সতাল রোডসহ একরামপুর থেকে সতাল বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, বহু স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে, গাড়ি নষ্ট হচ্ছে এবং শিশু-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ সবাইকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
গতকাল দুপুরে সতাল রোডের একটি গভীর গর্তে একটি অটোরিকশার সামনের চাকা পড়ে উল্টে যায়। এতে দুই যাত্রী আহত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে; তবে সড়ক সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, “আমরা সকালে বৃষ্টি হলে এই রাস্তায় বের হতে ভয় পাই। পানি জমলে গর্ত দেখা যায় না, তখন গাড়ি উল্টে যাওয়া নতুন কিছু নয়। একে কি সড়ক বলা যায়?”
স্কুলে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। পাশের এলাকার এক ছাত্রী জানায়, “রাস্তাটা এমন খারাপ যে আমরা অনেক সময় স্কুলে দেরি করে পৌঁছাই। বৃষ্টি হলে তো রাস্তাই চিনে উঠা যায় না।”
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের অবস্থার কারণে মালবাহী পিকআপ ও ট্রাক এই রুটে আসতে চায় না। অনেকে বাড়তি ভাড়া দাবি করে। এতে পণ্যের দাম ও পরিবহন ব্যয় উভয়ই বেড়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে “মহাসড়কে উন্নীত করার” নামে সংস্কার বন্ধ রাখা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ড্রেনেজ নকশা জটিলতার কথা উল্লেখ করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সময়ক্ষেপণ করছে।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, “এই রুট উন্নীত করার প্রকল্প চলমান আছে। কিছু আইনি প্রক্রিয়া ও জমি সমন্বয় বাকি রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শুরু না হলেও দ্রুত অন্তর্বর্তী সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।”
এদিকে স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে অন্তত রাস্তার বড় গর্তগুলো ভরাট করা ও চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়,
“সময় লাগুক বড় কাজের জন্য, কিন্তু মানুষের জীবন যেন গর্তে না পড়ে যায়।”
…….

