কিশোরগঞ্জ–৫:মনোনয়ন দৌড়ে উত্তাপ, দুই গ্রুপের সংঘর্ষ—জামায়াতের সুযোগ; ‘ক্লিন ইমেজে’ এগিয়ে জিএস মীর জলিল
নিজস্ব প্রতিবেদক| বার্তাবাহক ডেস্ক
কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে। স্থানীয় দুই প্রভাবশালী গ্রুপের মধ্যে ধারাবাহিক টানাপোড়েন, পাল্টাপাল্টি শোডাউন ও হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই মাঠে নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণায় সুবিধা নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক রমজান আলী।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপি’তে ‘ক্লিন ইমেজ’ ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ত্যাগের কারণে জিএস মীর জলিলকে সামনে এনে আলোচনা বাড়ছে।
বিএনপি থেকে দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী—শেখ মুজিবুর রহমান (ইকবাল)ও জাতীয় দলের সভাপতি এহসানুল হুদা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় পৃথক শক্তিপ্রদর্শন করে আসছিলেন। উভয় পক্ষই ‘মনোনয়ন আমাদেরই প্রাপ্য’ দাবি করে মানববন্ধন, সমাবেশ ও কর্মী বৈঠক করেছে।গত সপ্তাহ-তিনেক ধরে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।দুপুরে ইকবালপন্থীদের পথসভা বিকালে এহসানুল হুদার সমর্থকদের শোডাউন রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া, রক্তপাত, কয়েকজন আহত, কয়েকজন আটক,ঘটনায় পুলিশ বাড়তি টহল শুরু করেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “মনোনয়ন ঘোষণার আগেই নির্বাচনোত্তর সহিংসতার মতো পরিবেশ তৈরি হয়ে যাচ্ছে।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। দলের উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় থাকায় সমঝোতা কঠিন হচ্ছে,এদিকে বেগম খালেদা জিয়া মুমূর্ষ! স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ—“একটি গ্রুপ রাতের বেলা কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে বিভিন্ন তালিকা তৈরি করছে, আরেক গ্রুপ দিনভর মাঠে ‘দেখানো শক্তি’ দেখাচ্ছে।”এই অবস্থায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনোনয়নযোগ্য একক গ্রহণযোগ্য মুখ খুঁজতে চাইছে।দিনরাত সক্রিয় মাঠে রমজান আলী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক রমজান আলী টানা প্রচারণায় রয়েছেনহাট–বাজারে লিফলেট বিতরণ,রাত্রিকালীন উঠান বৈঠক স্থানীয় আলেম–উলেমা নেটওয়ার্ক সক্রিয়। বিএনপি’র–এর মনোনয়ন দেরি হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের কাছে তিনি তুলনামূলক বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে নিকলী অঞ্চলে তাঁর সংগঠনভিত্তিক উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বলে স্থানীয়রা জানান।
‘ক্লিন ইমেজ’ নিয়ে সামনে জিএস মীর জলিল যদিও বিএনপি–র ভেতরে সাংগঠনিক বিভাজন স্পষ্ট, তবু দলীয় তৃণমূলের বড় অংশের মতে—জিএস মীর জলিল
দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নির্যাতন সহ্য করেছেন দলে অর্গানাইজিং লাইনে পরিশ্রমী ব্যক্তিগত জীবনে পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য মাঠে সহনশীল ও আধুনিক রাজনীতির ভাবমূর্তি বজায় রাখেন।তারুণ্য–ভিত্তিক কর্মী এবং সদ্য সক্রিয় হওয়া এখন তৃণমল, ওয়ার্ড কমিটি তাঁকেই সামনে আনতে চাইছে।
বিএনপি–র কয়েকজন সিনিয়র নেতার মন্তব্য—“সংঘর্ষের রাজনীতি নয়—এখন দরকার পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য একজন প্রার্থী। বাজিতপুর–নিকলীতে জলিলের গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট।”ভোটের সমীকরণ: কোন দিকে ঝুঁকছে মাঠ?প্রথমত মনোনয়ন বিভাজন অব্যাহত থাকলে বিএনপি ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হবে, সংঘর্ষে সাধারণ ভোটার বিমুখ হবে জামায়াত ও অন্যান্য ছোট শক্তি লাভবান হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দ্বিতীয়ত বিএনপি একক প্রার্থী দিলে ক্লিন ইমেজ–ভিত্তিক প্রার্থী হলে সংঘাত কমার সম্ভাবনাতৃণমূল কর্মীদের মেরুকরণ হ্রাস জামায়াতের প্রচারণায় চাপ সৃষ্টি হবে তৃতীয়ত আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতিবারবার সংঘর্ষ হলে নির্বাচন কমিশনের বাড়তি নিয়ন্ত্রণ ও বাহিনী মোতায়েন বাড়বে—এটি ভোটের দিন উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে।মোদ্দাকথা, বাজিতপুর–নিকলী আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি। কিন্তু তিনটি বিষয় স্পষ্ট—
১) বিএনপি মনোনয়ন ঘোষণা না করা পর্যন্ত সংঘাত থামবে না।
২) জামায়াত শূন্যতার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।
৩) ক্লিন ইমেজ–ধারী জিএস মীর জলিলকে সামনে আনলে জোটভোট ও তৃণমূল সমন্বয় সহজ হতে পারে।এই আসনের রাজনীতি এখন ধোঁয়াশায়—চূড়ান্ত মনোনয়নই নির্ধারণ করবে শেষ লড়াই কোন দিকে যাবে বলে মনে করছে তৃণমূল বিএনপি ও সাধারণ জনতা।
বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ|রাজনীতি |কিশোরগঞ্জ-৫|২০২৫ইং

