- ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে জামায়াত-এনসিপির শর্ত, নির্বাচনের নিয়ে শঙ্কা।
বার্তাবাহক ঢাকা
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংস্কার সনদ বাস্তবায়নসহ একাধিক শর্ত তুলে ধরে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। তাদের অভিযোগ—ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচারের বিষয় উপেক্ষা করে একটি ‘সাজানো’ নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন বৈঠকের পর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের বিষয়ে যৌথ সম্মতি ঘোষণায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে জামায়াত ও এনসিপি। তারা বলছে, এই সিদ্ধান্তে অন্য দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়নি এবং প্রশাসন বিএনপির প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছে।
- দল দুটির সাধারণ দাবি—সংবিধান ও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই সনদকে আইনগত ভিত্তি দিয়ে বাস্তবায়ন করে তবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা। পাশাপাশি, সংসদে ভোটের আনুপাতিক হার (পিআর পদ্ধতি) চালুর প্রস্তাবও তারা জোরালোভাবে তুলেছে, যদিও বিএনপি এ ব্যবস্থার বিরোধী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে সম্ভাব্য একক প্রাধান্য জামায়াত ও এনসিপিকে চাপে ফেলেছে। এতে তারা আসন বণ্টন বা রাজনৈতিক দরকষাকষির জন্য চাপের কৌশল নিতে পারে।
শর্ত পূরণ না হলে জামায়াত ও এনসিপি ভোট বর্জনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এতে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং বিএনপিও রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় পড়তে পারে।
সরকার বলছে, নির্বাচনের সময় ঘোষণা হয়ে গেছে; এখন নির্বাচন কমিশন দলগুলোর সঙ্গে তফসিল ও পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করবে, তবে সংবিধান সংস্কার সে আলোচনার অংশ নয়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা—শর্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি নির্বাচনের আগে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে। যদিও সব পক্ষই জানে, নির্বাচনের অনিশ্চয়তার দায় কোনো দল নিতে চাইবে না, তবু মতপার্থক্য ও চাপানউতোর পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।
বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ
১৪ই আগস্ট ২০২৫

