ঢাকাসোমবার , ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. ইতিহাস
  6. কিশোরগঞ্জ
  7. খেলা
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. জামায়াতে ইসলামী
  12. বঙ্গবন্ধু
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. বীর মুক্তিযোদ্ধা
আজকের সর্বশেষ খবর

মনোনয়ন পেয়েও পেলেন না ইকবাল: হুদার জেদে বিলুপ্ত দল, এখন গোলকিপার ভরসা।

মোহাম্মদ নূরে আলম
ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মনোনয়ন পেয়েও পেলেন না ইকবাল: হুদার জেদে বিলুপ্ত দল, এখন গোলকিপার ভরসা।

কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের রাজনীতি এখন আর শুধু মনোনয়ন–প্রাপ্তি বা বঞ্চনার গল্প নয়; এটি পরিণত হয়েছে ক্ষমতার ভারসাম্য, দলীয় কৌশল ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির এক জটিল ম্যাচে। যেখানে মাঠে খেলছেন প্রার্থীরা, গ্যালারিতে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা, আর রেফারির বাঁশিতে থমকে যাচ্ছে বহু হিসাব–নিকাশ।
এই আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন—এ তথ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল আলোচিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৃশ্যপট বদলে যায় সৈয়দ এহসানুল হুদার আগমনে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সভাপতি ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত হুদা নিজের নেতৃত্বাধীন দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং সরাসরি মনোনয়ন আদায় করেন। ফলে রাজনীতির মাঠে ইকবাল কার্যত ‘মনোনয়ন পেয়েও বঞ্চিত’ এক চরিত্রে পরিণত হন।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে—মনোনয়ন কি ত্যাগ ও মাঠের রাজনীতির স্বীকৃতি, নাকি এটি কেবল শক্তিশালী দরকষাকষির ফল? হুদার ক্ষেত্রে দেখা গেল, দল বিলুপ্তির মতো বড় সিদ্ধান্তও শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের কৌশলে রূপ নিয়েছে। এতে জোট রাজনীতির আদর্শিক ভিত্তি কতটা শক্ত, সে প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
অন্যদিকে ইকবালের সমর্থকদের ক্ষোভও উপেক্ষা করার নয়। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শ্রম ও স্থানীয় সমর্থন উপেক্ষিত হয়েছে। এই ক্ষোভ থেকেই স্বতন্ত্র নির্বাচনের গুঞ্জন ছড়াচ্ছে—যা কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের ভোটের অঙ্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে।
হুদা অবশ্য জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিজেকে গ্রহণ করার অনুরোধ রেখেছেন। কিন্তু রাজনীতিতে আহ্বান আর গ্রহণের মাঝে যে আস্থার সেতু দরকার, তা একদিনে তৈরি হয় না। বিশেষ করে যখন একটি প্রক্রিয়ায় কেউ নিজেকে বঞ্চিত মনে করেন।
প্রদত্ত ছবিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ‘লেফারি’র ভূমিকায় দেখানো হয়েছে—এটি নিছক ব্যঙ্গচিত্র নয়, বরং দলীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত রেফারির প্রতীক। প্রশ্ন হলো, এই রেফারির বাঁশি কি মাঠের খেলোয়াড়দের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে পেরেছে, নাকি শক্তিশালীদের ফাউল উপেক্ষিতই থেকে গেছে?
সবশেষে বলা যায়, কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের এই রাজনৈতিক ম্যাচ এখন গোলকিপারের ওপর নির্ভরশীল—অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিচক্ষণতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতার ওপর। নইলে ‘মনোনয়ন পেয়েও পেলেন না’—এই শিরোনাম শুধু একজনের নয়, পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে থাকবে।

মোহাম্মদ নূরে আলমবা|র্তাবাহক কিশোরগঞ্জ