ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৬ নভেম্বর ২০২৫
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. ইতিহাস
  6. কিশোরগঞ্জ
  7. খেলা
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. জামায়াতে ইসলামী
  12. বঙ্গবন্ধু
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. বীর মুক্তিযোদ্ধা
আজকের সর্বশেষ খবর

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে রাজনীতির মেরুকরণ: জনপ্রিয়তা, সম্ভাবনা ও বাস্তবতার বিশ্লেষণ।

বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ
নভেম্বর ৬, ২০২৫ ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে রাজনীতির মেরুকরণ: জনপ্রিয়তা, সম্ভাবনা ও বাস্তবতার বিশ্লেষণ।

রিপোট: বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ,কিশোরগঞ্জ -৫ নির্বাচনি হাওয়া

হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও বিএনপির হাতে গেলেও দীর্ঘ সময় এটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তবে ২০০৮ সালের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা পাল্টাতে শুরু করে। ২০১৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার কৌশল ও দলীয় মেরুকরণের মধ্য দিয়ে এ আসনটি ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে আসে।পাঠক সুবিধার্থে জানিয়ে রাখি, বাজিতপুরে ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন-১৬৬। নিকলী-বাজিতপুর উপজেলার নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যমতে, বাজিতপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৯৪ হাজার ৬৯০ জন আর নিকলীতে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৭ জন। এ আসনে সর্বমোট ভোটার তিন লাখ ১১ হাজার ৩৬৭ জন।
কিন্তু বিগত কয়েক মাসে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের পর রাজনৈতিক মাঠ নতুনভাবে সক্রিয় হয়েছে। এতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনেও পাল্টাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ। স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে—এই আসনটি আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও অপ্রত্যাশিত হয়ে উঠতে পারে।
এই আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং রাষ্ট্রসংস্কারপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানের অনেকে সক্রিয় রয়েছেন। আলোচনা বেশি কয়েকজনকে কেন্দ্র করে—
শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, দীর্ঘদিন দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা ও স্থানীয় জনপ্রিয়তা থাকায় তাকে অনেকে ‘শীর্ষ দাবিদার’ হিসেবে দেখছেন।তিনি বর্তমানে উপজেলা বিএনপি’র নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মীর মোহাম্মদ জলিল হোসেন
বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুই বার সাবেক নির্বাচিত জিএস, বাজিতপুর সরকারি কলেজ (১৯৮০-৮১) (১৯৮১-৮২)।সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপি।সাবেক ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপি।এবং সাবেক সম্মানিত সদস্য, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি হিসেবে তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘ। ৮০-এর দশক থেকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকায় তার একটি স্থায়ী ভোটভিত্তি রয়েছে। বিশেষ করে বাজিতপুর পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ ও সহানুভূতিশীল ইমেজ এখনো প্রভাব বিস্তার করে।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলা, মামলা ও দমনপীড়নের মধ্যেও তিনি এলাকায় উপস্থিতি বজায় রেখেছেন—যা অনেক ভোটারের কাছে ধৈর্য ও নিবেদনের প্রতীক হিসেবে প্রতিফলিত হয়।উল্লেখ্য ঘটনাটি ছিলো মর্মান্তিক: ২৮শে অক্টোবর, ২০২৪ এর পরবর্তী সময়ে বিএনপি অবরোধ কর্মসূচীর ডাক দেয়। ৩১শে অক্টোবর উক্ত অবরোধ পালন করার উদ্দেশ্যে রাজপথে সফলভাবে শেষ করে অবরোধ থেকে ফেরার পথে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগসহ প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মী পথ অবরোধ করে।জলিলের ডান হাত ও পা ভেঙ্গে ফেলে। ওনার ছেলে সৈয়দ সম্রাট এর বাম হাত ও বাম পা ভেঙ্গে ফেলে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ৪টি সেলাই করে,এগুলো সাধারণ মানুষের সহানুভূতির জায়গা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাই মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করে, যদি দলীয় কোন্দল না থাকে, তবে মীর মোহাম্মদ জলিল মাঠের নেতৃত্ব, ভোটার সংযোগ ও সংগঠন পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
এদিকে জোট রাজনীতির সমীকরণে জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক রমজান আলীও এক্ষেত্রে শক্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। তার গ্রহণযোগ্যতা ও ক্লিন ইমেজ বিশেষ পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া রাখছে।
বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকবে কিনা বিজয়ের সবচেয়ে বড় শর্ত। জোটে সমন্বয় হবে কিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমবে তৃণমূল কর্মী পুনরুজ্জীবন ভোটার চাঙ্গা হবে
নতুন ভোটার ও যুব সমাজের অবস্থান ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে
বিশেষ আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা। সৈয়দ এহসানুল হুদার বাড়িও বাজিতপুরেই।বিএনপি’র সাথে জোটে গেলে এ আসন ছাড়তে পারে দল বলে জানা গিয়েছে।
বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য নেতারা হলেন- বাজিতপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এহেসান কুফিয়া,বাজিতপুর বিএনপি নেতা ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মামুন। উল্লেখ্য, মামুনের পিতা প্রয়াত মজিবুর রহমান মঞ্জু দুইবারের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন। নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু। উল্লেখ্য, মিঠুর পিতাও প্রয়াত আমির উদ্দিনও তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে ১৯৯৬ সালে মনোনয়ন বঞ্চিত হলে দলের বিতর্কিত অবস্থানে চলে যান। পরে এডিপিতেও যোগদান করেন। এ ছাড়াও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল আলম রাজনসহ কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক ও নিকলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাসুক মিয়ার নামও শোনা যাচ্ছে। এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাজী মাসুদের নামও প্রচার করছেন তার অনুসারীরা।