ইটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত: হত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার রুহানী।
সংবাদ প্রতিবেদন:বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল ইটনা উপজেলায় পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নাছির মিয়া (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের গজারিয়া কান্দা এলাকায় গাছের বাড়ি ও আছুর বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের রাস্তা ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত নাছির মিয়া (২২) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে মারা যান। নিহত নাছির মিয়া ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের গজারিয়া কান্দা এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. আনোয়ার হোসেন (২৯) বাদী হয়ে ইটনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৮ ডিসেম্বর বিকেলে গোলাম রুহানীসহ এজাহারনামীয় আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বসতভিটায় প্রবেশ করে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর, বল্লম দিয়ে আঘাত এবং দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে বাদীর ছোট ভাই নাছির উদ্দিন (২২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
উক্ত ঘটনায় ইটনা থানায় মামলা নং-০৫ (তারিখ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫) রুজু করা হয়। মামলায় পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/৪২৭/৫০৬/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর সিপিসি-২, র্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৭, সিপিএসসি, পতেঙ্গা, চট্টগ্রামের সহায়তায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি গোলাম রোহানী (৩২), থানা-ইটনা, জেলা-কিশোরগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়।
ইটনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মামলার আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১ জানুয়ারি ২০২৬ইং

