গত ছয় মাসে কিশোরগঞ্জে শিশুদের অপ্রাকৃত মৃত্যু প্রায় অর্ধশতাধিক।
কিশোরগঞ্জ,২৭ অক্টোবর ২০২৫ ইং/বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য—গত ছয় মাসে (২৪ এপ্রিল থেকে ২৪ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত) কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু বিভিন্ন অপ্রাকৃত ও আকস্মিক ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে। এসব ঘটনার মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি, এরপর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, সড়ক দুর্ঘটনা, সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যু রয়েছে।
সবশেষ ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার পশ্চিম আলীনগর এলাকায়। সেখানে একই গ্রামের তিন শিশু—আবুল কালামের ছেলে মিশকাত, মাসুক মিয়ার ছেলে মাহিন এবং সাত্তার মাঝির ছেলে তানিল—বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায়।তখন স্থানীয়ভাবে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। প্রশাসনের তরফে তদন্ত ও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও, জেলাজুড়ে শিশু মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান হার এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
গত ছয় মাসে নথিভুক্ত প্রধান কয়েকটি ঘটনা:
- 🔹২৪ অক্টোবর – অষ্টগ্রাম: তিন শিশুর ডুবে মৃত্যু (৩ জন)
- 🔹২২ অক্টোবর – পাকুন্দিয়া: বাথরুমে গোসলকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৭ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু
- 🔹 ১৭ অক্টোবর – হোসেনপুর: পুকুরে পড়ে ৫ বছরের শিশু মারা যায়
- 🔹 ২০ সেপ্টেম্বর – ভৈরব: সহিংসতায় আঘাতপ্রাপ্ত ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যু
- 🔹 ৩০ জুলাই – করিমগঞ্জ: দুই শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু
- 🔹 ১১ জুন – করিমগঞ্জ: খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু
- 🔹 ৭ জুন – ভৈরব: দেড় বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু
- 🔹 ২ জুন – সদর উপজেলা: নির্মাণাধীন ভবনের নিচে জমে থাকা পানিতে দুই শিশুর মৃত্যু
এসব ঘটনার বাইরে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরও প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে বিভিন্ন উপজেলায়, যার মধ্যে নিখোঁজ হওয়ার পর মৃতদেহ উদ্ধার, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, সড়ক দুর্ঘটনা, এবং পারিবারিক অবহেলায় প্রাণ হারানোর ঘটনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব মৃত্যু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি।
সংবাদ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শিশুদের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ জলাশয়। বাড়ির সামনের পুকুর, খাল বা বিলের পাশে বেড়া বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
“শিশুরা একটু খেলতে গেলেই পানিতে পড়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিভাবকরা কাজের ব্যস্ততায় পাশে থাকে না,” বলেন কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক।
গ্রামীণ বাড়িতে অরক্ষিত বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পুরোনো তারের ব্যবহার শিশুমৃত্যুর আরেক বড় কারণ। এ ছাড়া চলাচলের সড়কে ছোট শিশুদের গাড়ির নিচে পড়ার ঘটনাও বেড়েছে।সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যু:
ভৈরব ও করিমগঞ্জে অন্তত তিনটি শিশু হত্যাকাণ্ড বা রহস্যজনক মৃত্যুর মামলা পুলিশে রেকর্ড হয়েছে। তদন্ত চলমান।
“এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার কমাতে সচেতনতা বাড়াতে হবে।”
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মাসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৮টি শিশুর মধ্যে ২১ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়; এদের মধ্যে বেশিরভাগই ডুবে যাওয়ার বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনায় আহত ছিল।
বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ দীর্ঘদিন যাবৎ এ বিষয়ে লক্ষ্য করলেও, পিতা মাতারা কোনো সতর্কতা পালন করছেন বলে মনে করছি আমরা। আমরা পিতা মাথাতের অনুরোধ করবো আপনারা আরো সর্তক হউন।ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল শিশু এ প্রত্যাশা করি।

