শরতের কাশফুল আর শিউলির ঘ্রাণে প্রকৃতিতে জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। প্রায় এক মাস পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এরই মধ্যে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পূজাকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রাথমিক প্রস্তুতি।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর পৌরসভায় পাঁচটি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও ১০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। সব মিলিয়ে এবার ১৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি তিনটি মন্দিরে গড পূজার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার সরকার।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, ইতোমধ্যে পূজা উদযাপন কমিটিগুলো মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা এবং ভক্ত-দর্শনার্থীদের যাতায়াতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।
প্রতিমাশিল্পী প্রীতম পাল বলেন, এবার প্রতিমায় নান্দনিকতা ও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কুলেশ্বরী বাড়ি দেবালয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজীব চন্দ্র মোদক বলেন, “এবার পূজার আয়োজন আরও বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
বীরহাজীপুর কর্মকারপাড়া মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত বলেন, “সবাই যাতে নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
হোসেনপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমল চন্দ্র দেব (জগাই মেম্বার) বলেন, “১৫টি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের পাশাপাশি নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতি বছরই আমরা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাই। স্বাধীনতার আগে ও পরে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করি, এবারও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।”
পূজাকে ঘিরে কয়েক দিনের জন্য হোসেনপুরজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। মণ্ডপে মণ্ডপে তৈরি হয় মিলনমেলা। দূর-দূরান্ত থেকে স্বজন ও দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা, এবার হোসেনপুরে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন হবে আরও বর্ণাঢ্য, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর।
বার্তাবাহক ডেস্ক






