হোসেনপুরে ফিসারি দখল: আওয়ামী দোসর সুমনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন, থানায় অভিযোগ
হোসেনপুর প্রতিনিধি /৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রহিমপুর গ্রামের চাপড়া বিল এলাকায় আবু বক্কর সিদ্দিকের বৈধভাবে লিজকৃত ফিসারি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন আওয়ামী দোসর ও স্বার্থন্বেষী চক্রের অন্যতম সদস্য আমজাদ হোসেন সুমন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবু বক্কর সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলন করে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আবু বক্করের অভিযোগ, ১৪ কানি(৪৯০শতক) ফিসারির অংশীদারিত্ব তার দখলে ছিলো। রাজনৈতিক সুবিধা ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী সুমন কৌশলে তার কাছ থেকে মৌখিকভাবে ফিসারির দায়িত্ব নিয়ে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই টাকা পরিশোধ করেননি। উল্টো স্থানীয় শালিস বৈঠকেও সমাধান না করে দীর্ঘদিন ধরে জোর করে ফিসারি দখলে রেখে প্রভাব খাটাচ্ছেন সুমন। বর্তমানে উক্ত ফিসারিতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মাছ রয়েছে, যার ন্যায্য অংশীদার দাবি করেন আবু বক্কর।
অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুমনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অস্বচ্ছ বক্তব্য দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুমনের কথাবার্তায় অসংখ্য গোপনীয়তা লুকিয়ে আছে। ফলে ঘটনাটি তদন্তাধীন।এবং বিষয়টি সমাধান হওয়া আগ পর্যন্ত মাছ ছাড়া বা ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, এই ফিসারিটি মূলত মিলন মিয়া ও আলম মিয়া নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে বৈধভাবে লিজ নিয়ে পরিচালনা করছিলেন আবু বক্কর। তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা হওয়ায় আওয়ামী শাসনামলে বিভিন্ন নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখে সরাসরি দেখাশোনা করতে পারেননি। সেই সুযোগে বিশ্বাসের জায়গা থেকে সুমনের কাছে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি একদিকে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না, অন্যদিকে পুরো ফিসারি দখলে রেখে মাছ বিক্রির আয় ভোগ করছেন।
এ বিষয়ে আবু বক্কর বলেন—
“আমি বিশ্বাস করেছিলাম, আর সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছে সুমন। এখন আমার প্রায় ৪৭০,০০০ টাকা এবং ১০ লক্ষ টাকার মাছ হাতছাড়া হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয়দের দাবি, দখলবাজদের দমন করে ভুক্তভোগীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
….







