রিপোর্ট : মুহাম্মদ নূরে আলম | বার্তাবাহক কিশোরগঞ্জ
কটিয়াদী উপজেলার অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যানিকেতন স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক প্রাণবন্ত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, উদ্দীপনা ও শৃঙ্খলাবোধ উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের মুগ্ধ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কটিয়াদী উপজেলায় প্রথমবারের মতো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, আত্মরক্ষার কৌশল, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

আর্ট শিক্ষক রুহুল আমীন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। সেই চিন্তা-ভাবনা থেকেই মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল শিখতে পারবে এবং নিজেদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সাহসিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ পাবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রিন্সিপাল, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ইতিবাচক মনোভাবের ফলেই এ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা নতুন এই উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দিত। অনেকেই বলেন, মার্শাল আর্ট শেখার মাধ্যমে তারা নিজেদের আত্মবিশ্বাসী মনে করছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুহুল আমীন বলেন, বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় দক্ষ হলেই চলবে না, তাদের আত্মরক্ষার সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে। মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক দৃঢ়তা অর্জন এবং শৃঙ্খলাবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের জন্য শুভকামনা জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলও বিদ্যানিকেতন স্কুলের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের কার্যক্রম চালু হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং তারা আরও আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
এদিকে, বিদ্যানিকেতন স্কুলের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শুভকামনা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বার্তাবাহক সম্পাদক মুহাম্মদ নূরে আলম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি আত্মরক্ষার দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কটিয়াদীর অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণে এগিয়ে আসবে।
শিক্ষার পাশাপাশি আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে কটিয়াদী উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে বিদ্যানিকেতন স্কুল শিক্ষার্থীদের আধুনিক, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।







