কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় নীরবে গড়ে উঠছে এক ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যেই স্থানীয় মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুপারিশের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডভিত্তিক বিশেষ টিম সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও চিকিৎসাসেবাবঞ্চিত মানুষের খোঁজ নিচ্ছে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি জহিরুল ইসলাম মবিন।
ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে গঠিত টিমগুলো প্রতিটি এলাকায় গিয়ে অসহায় মানুষের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে তথ্য সংগ্রহ করছে। জরিপে উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক বহু বাস্তবচিত্র। কেউ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট কিংবা ক্যানসারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েও অর্থাভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না। কেউ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন চিকিৎসার অভাবে। আবার কোনো শিশুর গলায় টিউমারের অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ দেখা দিলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বন্ধ হয়ে আছে শুধুমাত্র অর্থ সংকটের কারণে।
এছাড়া অনেকেই জন্মগত বা দুর্ঘটনাজনিত প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন। কেউ দুই পায়ে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কষ্ট করে চলাফেরা করছেন, কেউ চোখ বা কানের জটিল সমস্যায় ভুগলেও চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না।
শুধু স্বাস্থ্য নয়, জরিপে উঠে এসেছে অসংখ্য অসহায় পরিবারের করুণ জীবনসংগ্রামের চিত্রও। কারও মাথা গোঁজার মতো নিজস্ব ঘর নেই, কেউ অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকের বসতঘর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, কারও নেই টয়লেট, কারও নেই নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল। এমনও পরিবার পাওয়া গেছে, যেখানে তিনটি পরিবার একটি মাত্র টয়লেট ব্যবহার করছে।
এছাড়া বহু বিধবা নারী এখনও সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত। অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র বা সরকারি সুবিধা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কৃষক ও নিম্নআয়ের পরিবারের এমন অনেক সন্তানও রয়েছেন, যাদের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে এখন চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তাদের একটাই আকুতি—সামান্য সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন।
এই উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি ভুক্তভোগীর তথ্য নির্ধারিত ফরম ও পৃথক শনাক্তকরণ কার্ডের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত অসহায়দের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, ঘর নির্মাণ, টিন, টিউবওয়েল, টয়লেটসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় বা সুপারিশের পরিবর্তে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত অসহায়দের চিহ্নিত করার এমন উদ্যোগ অত্যন্ত বিরল। এতে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর সম্ভাবনা যেমন বাড়ছে, তেমনি সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষায়, “সবার ওপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপরে নাই”—এই চিরন্তন মানবিক দর্শনকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন জহিরুল ইসলাম মবিন। তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু হোসেনপুর নয়, দেশের অন্যান্য এলাকার জন্যও একটি অনুসরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে।
ইতোমধ্যেই এই মানবিক কার্যক্রম বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম মবিন বলেন,
“আমি বিশ্বাস করি, একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। তাই কোনো সুপারিশ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, সরাসরি মানুষের ঘরে গিয়ে তাদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রকৃত অসহায় মানুষ যেন ন্যায্যভাবে সহায়তা পান। মানবিক এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষও যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসেন, তাহলে অনেক মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে।”







