কিশোরগঞ্জের -র চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘাগড়া লাজিমপাড়া গ্রামে ১৪ বছর বয়সী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী পাপিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য আরও বেড়েছে। ঘটনায় প্রেমিকসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে ১১ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক ৭টা থেকে ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে। পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাঁশের ধরনায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পাপিয়াকে ঝুলতে দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে -এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মোবারক মিয়া (২২)-র সঙ্গে পাপিয়ার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় ৪ মাস আগে মোবারক কাউকে কিছু না জানিয়ে বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে মোবাইল নম্বর ব্লক করা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং সম্পর্ক অস্বীকারের অভিযোগ ওঠে। এতে পাপিয়া চরম মানসিক ভেঙে পড়েন।
পরবর্তীতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে আলোচনা হলেও তা ভেঙে যায়। অভিযোগ রয়েছে, মোবারকের পরিবার পাপিয়া ও তার স্বজনদের অপমান-অপদস্থ করে এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। পরিবারের দাবি, ধারাবাহিক অপমান, মানসিক নির্যাতন ও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা পাপিয়াকে এই করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।মৃত্যুর পর পাপিয়ার বাড়িতে প্রশাসন এলে, বিদেশে অবস্থানরত মোবারক পুলিশের কাছে মোবাইলে বিষটি স্বীকার করেন, বলেন আমি বেকলিষ্ট করেছিলাম নাম্বার ” এ বিষয়ে কল রেকর্ড বার্তাবাহকের হাতে হস্তান্তর করে বাদী।সেই সাথে সাক্ষী লাকী আক্তারো প্রেমিকের সাথে নিয়মিত কথা বলতেন এবং তিনিও এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কল রেকর্ড আমাদের হস্তান্তর করেছেন।বাদীগণ আদালতে তা দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন পাপিয়ার মা।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন—
১. মোবারক মিয়া (২২) — পিতা: গোপাল মিয়া
২. গোপাল মিয়া (৫৫) — পিতা: ওহাব মালেক
৩. মমতাজ বেগম (৪৮) — স্বামী: গোপাল মিয়া
৪. ফারুক মিয়া (৩০) — পিতা: সুরত আলী
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের পোস্টমর্টেম (ময়নাতদন্ত) সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।তবে এ ঘটনার মূল সত্য রহস্য উন্মোচন হয়,যখন মোবারকের পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা করা হয় বাদী পক্ষকে টাকা দিয়ে খুশি করতে ৫ লক্ষাধিক টাকার অফার করে আসামীপক্ষ।কিন্তু মেয়ের বিচার বলে কথা,কোনো যুক্তি অর্থ বা হুমকিতে থামেনি পাপিয়ার পরিবার।তাই সুষ্ঠু বিচারের আশায় আইনের আশ্রয় নেন বাদী নাছিমা বেগম। বলেন আমার মেয়ের হত্যাকারীর দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার চাই ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই”।
-এ বিষয়ে ওসি আরিফুর রহমান জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা নাকি প্ররোচিত মৃত্যু—সকল দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।







