Welcome to বার্তাবাহক   Click to listen highlighted text! Welcome to বার্তাবাহক
ঢাকাSaturday , 30 August 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কিশোরগঞ্জ
  6. খেলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. বিনোদন
  10. বিশ্ব
  11. মতামত
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সর্বশেষ
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ খবর

প্রেম, বিয়ে, অন্তঃসত্ত্বা – অতঃপর রহস্যজনক মৃত্যু

Link Copied!

প্রেম, বিয়ে, অন্তঃসত্ত্বা – অতঃপর রহস্যজনক মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার | কটিয়াদী
আগস্ট ৩০, ২০২৫

মাত্রই ১৬ বছরে পা রেখেছিল সুমাইয়া আক্তার। পরিবারের নানা সংকটের মাঝেও পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল সে। মাঝেমধ্যে বিরতি এলেও স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কৈশোরের সেই চঞ্চলতার সময়েই পরিচয় হয় কটিয়াদীর তরুণ সাইফুল ইসলামের (২২) সঙ্গে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা, যা শেষ পর্যন্ত প্রেম, বিয়ে এবং অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মধ্য দিয়ে এগোয়।

গত ৬ এপ্রিল কোর্টে এফিডেভিট ও রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে সাইফুল ও সুমাইয়া। কিছুদিনের মধ্যেই সুমাইয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই সন্তানের মুখ আর দেখা হয়নি তার।

গত ২৪ আগস্ট ভোররাতে কটিয়াদীর পিয়ারাকান্দি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সুমাইয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত সুমাইয়া আক্তার কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের গোপদিঘী সরালিয়া হাটির মো. বাবর আলীর একমাত্র মেয়ে। তার স্বামী সাইফুল ইসলাম পিয়ারাকান্দি গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে এবং পেশায় ভেকু চালক।

সুমাইয়ার বাবা মো. বাবর আলী জানান,

“আমার মেয়ে গোপদিঘী জিন্নাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সাইফুল মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফুঁসলিয়ে কোর্টে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। আমরা একমাত্র মেয়ে বলে বিয়েটা মেনে নিয়েছিলাম। দুই মাস আগে সে অন্তঃসত্ত্বা হলে কিছুদিন বাবার বাড়িতে ছিল। পরে ২০ আগস্ট শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যায় সাইফুল। এর চারদিন পর ২৪ আগস্ট ভোররাতে সাইফুলের বড় ভাই কুদ্দুস ফোনে জানায়, মেয়ে মারা গেছে। কিন্তু যখন আমি গেলাম, বিছানায় নিথর লাশ পেলাম। ফাঁসিতে ঝুলে মারা যাওয়ার কোনো আলামত পাইনি।”

নিহত সুমাইয়ার মা মার্জিয়া আক্তার, যিনি পরিবারের সচ্ছলতার জন্য চার বছর ধরে জর্ডানে আছেন, বলেন,

“সাইফুল কিছুদিন আগে আমাকে ফোন দিয়ে একটি ট্রাক্টর গাড়ি কিনে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আমি তখন বলেছিলাম, সময় সুযোগ হলে কিনে দেবো। সাইফুল মাদকসেবী ছিলো, তাই দ্রুত গাড়ি কিনে দিইনি। আমার ধারণা, এই ক্ষোভ থেকেই আমার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে সে। আমার মেয়ের গলায় মোটা কালো দাগ ছিল এবং শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিলো। সুমাইয়া দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো।”

সুমাইয়ার মৃত্যুর পর থেকে স্বামী সাইফুল পলাতক রয়েছে বলে জানায় পরিবার। তারা দাবি করেছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

কটিয়াদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম টিটু জানান,

“ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

Click to listen highlighted text!