কিশোরগঞ্জের নিকলীকে অনেকেই ‘সাঁতারের আতুরঘর’ বলে থাকেন। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ, পরিশ্রম ও একঝাঁক প্রতিভাবান সাঁতারুর সাফল্যের গল্প। স্থানীয়ভাবে এই যাত্রার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত আবুল হাসেম সাহেব
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবুল হাসেমের হাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রায় দুই শতাধিক সাঁতারু বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তাঁর প্রশিক্ষণে তৈরি সাঁতারুদের মধ্যে কয়েকজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারার মিজান। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় সাঁতারে রেকর্ড গড়েছেন এবং নিকলীর প্রথম সারির কৃতী সাঁতারুদের একজন।
শুধু কারার মিজান নন, নিকলীর সাঁতার থেকে উঠে এসেছেন ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী নাজমুল হক হিমেল। এ ছাড়া কারার সামেদুল, আরিফুল ইসলাম, নিয়ামুল হক, মোজাম্মেল তালুকদার, এনামুল হক, আমিরুল ইসলাম জয়, কাজল মিয়া, মোহাম্মদ ইসলাম, রোমানা আক্তার, মো. তোফায়েল, মোহাম্মদ টিটু, জামরুল ও শরিফুল ইসলামসহ আরও অনেক সাঁতারুর নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত।
নিকলীর জলাভূমি, হাওর ও নদীকেন্দ্রিক পরিবেশ সাঁতার শেখার জন্য প্রাকৃতিকভাবে অনুকূল। তবে শুধু পরিবেশ নয়, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দক্ষ প্রশিক্ষকের ভূমিকা যে গুরুত্বপূর্ণ—আবুল হাসেমের দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তারই উদাহরণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
একসময় সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিকলীর তরুণদের সাঁতারে আগ্রহী করে তোলার কাজ করেছেন আবুল হাসেম। তাঁর হাত ধরে তৈরি হওয়া সাঁতারুদের কেউ যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন বাহিনীতে, কেউ অংশ নিয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়।
নিকলীর সাঁতারের এই দীর্ঘ পথচলার গল্প অবশ্য এখানেই শেষ নয়। আগামী এক বছর পর এই সাফল্যের নেপথ্যের আরও কিছু গল্প, মানুষ ও অর্জনের কথা তুলে ধরার প্রত্যয় রয়েছে।
তারিখ: ৮ অক্টোবর ২০২৬






