বার্তাবাহক ডেস্ক | স্টাফ রিপোর্টার: ওমর ফারুক
২০১৩ সালে জাতীয়করণের সব শর্ত পূরণ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন এবং সরকারি গেজেটের আওতায় থাকার দাবি সত্ত্বেও দেশের প্রায় ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো জাতীয়করণের বাইরে রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক কোনো ধরনের বেতন-ভাতা ছাড়াই মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা দাবি করেন, ২০১৩ সালের তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের সময় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় বহু বিদ্যালয়কে বাদ দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, সে সময় বিএনপি বা জামায়াত-সমর্থক শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্য থাকার অভিযোগ তুলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু অযোগ্য বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
শিক্ষক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারির সরকারি ঘোষণায় সারা দেশে প্রায় ৩১ হাজার বিদ্যালয় তালিকাভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলেও, প্রায় ৫ হাজার বিদ্যালয় চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে। এসব বিদ্যালয় ২০১৩ সালের গেজেট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছিল বলে সংগঠনটির দাবি।
সংগঠনের ভাষ্য, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করেছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, জমি এবং শিক্ষক নিয়োগের শর্তও পূরণ করা হয়েছিল।
শুধু শিক্ষক নন, এই বঞ্চনার শিকার হচ্ছে লাখো গ্রামীণ শিক্ষার্থীও। জাতীয়করণ না হওয়ায় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি উপবৃত্তি, মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন শিক্ষা-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিক্ষক সমিতির দাবি, এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় অনেকে টিউশনি, অটোরিকশা চালানোসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়ে পরিবার চালাচ্ছেন। অর্থাভাবে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা ও ন্যূনতম জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে অনেক শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেছেন। কেউ কেউ কোনো ধরনের অবসর সুবিধা বা পেনশন ছাড়াই চাকরি জীবন শেষ করেছেন বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
শিক্ষক সমিতির ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একটি কনসালটেশন কমিটির মাধ্যমে ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণ-সংক্রান্ত একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষকরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, ২৭ মে ২০১২ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত, জমি দলিলকৃত এবং বর্তমানে চালু থাকা অনধিক ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২০১৩ সালের গেজেটের ভিত্তিতে দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাদ্দাম হোসেন রুহান মন্ডল বলেন, “বিগত সময়ে রাজনৈতিক কারণে আমাদের বিদ্যালয়গুলো বঞ্চিত হয়েছে। আমরা কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নয়, ন্যায্য অধিকার চাই। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে এবং হাজারো শিক্ষক-পরিবারের মানবিক জীবন নিশ্চিত করতে দ্রুত জাতীয়করণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”







